প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে শেষ চারের সমীকরণ জমিয়ে তুলেছে ব্যাঙ্গলুরু!

হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে শেষ চারের সমীকরণ জমিয়ে তুলেছে ব্যাঙ্গলুরু!

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৮১:০৯:২১ পূর্বাহ্ন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

 

প্লে-অফ অনেক আগেই নিশ্চিত করেছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। অন্যদিকে এই ম্যাচ হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বেড়িয়ে যেত ব্যাঙ্গলুরু। আর কঠিন সেই ম্যাচটি জিতেই শেষ চারের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখলো রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গলুরু। ২১৯ রানের বিশাল লক্ষ তাড়া করতে নেমে কেন উইলিয়ামসনের ঝড় তোলা ব্যাটিংয়ে পরেও জিততে পারেনি হায়দ্রাবাদ।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই পার্থিব পাটেলের উইকেট হারায় ব্যাঙ্গলুরু। ১ রান করা পার্থিব সন্দিপের বলে থার্ড ম্যানে থাকা সিদ্ধান্ত কৌলকে ক্যাচ দেন। পরের ওভারে সাকিব ১১ রান দিলে একটু স্বস্থি পায় ব্যাঙ্গলুরু। এরপর একটু সামলে খেলার চেষ্টা করেও পঞ্চম ওভারে বিরাট কোহলিকে ফেরান রাশিদ খান। ১২ রান করা কোহলি গুগলি বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন। এরপর আক্রমনাত্মক কিন্তু সতর্ক জুটি গড়েন এবি ডি ভিলিয়ার্স ও মঈন আলি। দুইজনের চার-ছক্কার জুটি ভাঙ্গেন সেই রাশিদ খান। ১২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৯ বলে ৬৯ রান করা ডি ভিলিয়ার্সকে শিখর ধাওয়ানের হাতে তালুবন্ধি করেন এই আফগান স্পিনার।

একি ওভারেই ৩৪ বলে ২ চার ও ৬ ছক্কায় ৬৫ রান করা মঈন আলিকেও ফেরান রাশিদ খান। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে শ্রীভাটস গৌস্বামির হাতে ধরা পরেন মঈন আলি। ১৮তম ওভারের সিদ্ধার্থের গুড লেংথ বলটি সামনে এগিয়ে মারতে গিয়ে শিখর ধাওয়ানের হাতে ধরা পরেন ৪ রান করা মান্দিপ সিং। অন্যদিকে ভয়ানক রূপ ধারন করেছিলেন ডি গ্রান্ডহোম। ১৭ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৪০ রান করা গ্রান্ডহোমকে এবার ফেরান ফিল্ডার রাশিদ খান। সিদ্ধার্থ কৌলের শর্ট হলে গ্রান্ডহোম ফিরলে ৮ বলে ২২ রান করা সরফরাজের ক্যামিওতে ৬ উইকেট ২১৮ রানের সংগ্রহ পায় ব্যাঙ্গলুরু।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ষষ্ঠ ওভারে প্রথম ধাক্কা খায় হায়দ্রাবাদ। নিজের বলেই ক্যাচ ধরে ১৮ রান করা শিখর ধাওয়ানকে ফেরান যুজবেন্দ্র চাহাল। ২৪ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ে ৩৭ রান করা অ্যালেক্সকে এক হাতে ধরা দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরান ডি ভিলিয়ার্স। মঈন আলির করা বলটি প্রায় ছয় হয়ে যাচ্ছিল, এমন সময় দৌড় এসে লাভ দিয়ে এক হাতে শ্বাসরুদ্ধকর ক্যাচ নেন ক্রিকেটের ‘সুপারম্যান’ ডি ভিলিয়ার্স।

বড় লক্ষ জয়ের কথা মাথায় রেখে ঝড় তোলা জুটু গড়েন কেন উইলিয়ামসন ও মানিশ পান্ডে। এক সময় মনেই হচ্ছিল দুজনে মিলেই দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাবেন। তবে তা হতে দিলো না মোহাম্মদ সিরাজ। শেষ ওভারে স্লগ করতে গিয়ে ফাইন লেগের ডি গ্রান্ডহোমকে সহজ ক্যাচ দেন উইলিয়ামসন। ৪২ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ৭টি বাউন্ডারি ও ৫টি ওভার-বাউন্ডারি ছিল সানরাইজার্স অধিনায়কের। মানিশ পান্ডে ৭ চার ও ২ ছয়ে ৩৮ বলে অপরাজিত ৬২ রান করলেও তা দলকে জেতাতে যথেষ্ট ছিল না।

১৪ রানের মহাগুরুত্বপূর্ন ম্যাচে জয় পেয়ে শেষ চারের সম্ভাবনাময় স্থানে ব্যাঙ্গলুরু। ১৯ মে রাজস্থান রয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের ফলাফলই বলে দিবে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গলুরুর ভাগ্য। দুর্দান্ত ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ের ফলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

পরবর্তী ম্যাচ, দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় প্লে-অফ নিশ্চিত করা চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে মাঠে নামবে তলানিতে থাকা দিল্লি ডেয়ারডেভিলস।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।