প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » সাকিব আল হাসানের বিকল্প কি পাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট?

সাকিব আল হাসানের বিকল্প কি পাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট?

প্রকাশ : ২৮ মে ২০১৮১:৫৪:২৮ অপরাহ্ন

ইনতিসার মোহাম্মদ আলভী | বাংলা ইনিশিয়েটর

‘সাকিব আল হাসান’ একটি ভালোবাসার নাম,একটি প্রেরণার নাম। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। অল রাউন্ডার র‍্যাংকিং এর ১ম স্থানটি যেন একমাত্র তার নিজস্ব সম্পত্তি। তিনি বিশ্বের একমাত্র অল রাউন্ডার যে একইসাথে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে ১ নং অল রাউন্ডার হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। এ কীর্তি শুধুমাত্র একবারের নয় বরং তিন তিনবার এই কীর্তি গড়েন সাকিব আল হাসান। ওডিআইতে ১ম অল রাউন্ডারের স্থানটি তার দখলে ছিল ৩১৪ সপ্তাহ। অপরদিকে সাউথ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিসের দখলে ছিল মাত্র ২০৩ সপ্তাহ।

নামের পাশে শুধু সেরা অল রাউন্ডার ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য বিরল কীর্তির রেকর্ড। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোরও তার নিজের দখলে। ২০১৭ এর ১৩ই জানুয়ারি ওয়ালিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন। এছাড়া ক্যারিয়ারের মাত্র ৫১ টেস্টে ১৭ বার ৫ টি করে উইকেট শিকার করেন তিনি। তিনি বিশ্বের চতুর্থ বোলার যে কিনা সকল টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে ৫টি করে উইকেট তুলে নেন। (আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তান বাদে,কারণ তারা সদ্য অন্তর্ভূক্ত দেশ)। তাছাড়াও দুই টেস্টে দুইবার ১০ উইকেট শিকার করেন এই বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার এবং তিনিই বিশ্বের তিনজন খেলোয়াড়ের একজন যে কিনা একই টেস্টে একটি শতক সহ ১০ উইকেট শিকার করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটিতে ‘সাকিব আল হাসান’ নামটি আধিপত্য বিরাজ করছে। কার্ডিফে মাহমুদুল্লাহকে সাথে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৯ বলে সর্বোচ্চ ২২৪ রান করে এক অভাবনীয় জয় এনে দেন সাকিব-মাহমুদুল্লাহ জুটি। তিনি ওডিআইতে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ দ্রুততম সময়ে ৫০০০ রান সহ ২০০ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন।

সাকিব আল হাসান নামের উজ্জ্বল নক্ষত্রের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাধ্যমে। ক্যারিয়ারের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে করেন ৩০ রান এবং বোলিং এ তারা সর্বপ্রথম শিকার ছিল চিগাম্বুরা। এই থেকেই তার শুরু,এরপরে তাকে আর দমাতে পারে নি তেমন কেউ। শুধু নিজের ক্যারিয়ার নয়, নিজের পারফরমেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে এসেছেন অনেকটা পথ। কিন্তু একটু সময় নিন,কেউ কি কখনো আমরা ভেবে দেখেছি তার অবসরের পরে কি হবে? এই সাকিব আল হাসান যাওয়ার পর কি বাংলাদেশ ক্রিকেট অন্য কোনো সাকিব আল হাসান পাবে? অন্যান্য সকল ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ তাদের কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের জন্য বিকল্প যথাযোগ্য খেলোয়াড় খুঁজে বের করেন। হয়তো বা কখনো খুঁজে পেতে একটু দেরি হয় আবার দেখা যায় হয়তো বা তারা থাকতেই তাদের সেই মানের খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু বিগত ৫ বছরে যেখানে আমরা আমাদের একাদশের ওয়ান ডাউনে আশরাফুলের বিকল্প ব্যাটসম্যান পেতে ব্যর্থ সেখানে সাকিব এর বিকল্প পাওয়া কি আদৌও সহজ হবে?চলুন,একটা আনুমানিক পরিসংখ্যান দেখা যাক:

  • শচীন টেন্ডুল্কারের হাত ধরে যেখানে ভারতের অধিকাংশ সেঞ্চুরি আসতো টেন্ডুলকার ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগে থেকেই সেই জায়গা দখল করেন বিরাট কোহলি।
  • গতি দানব ওয়াসিম আকরামের বলের প্রচন্ড সুইং ছিল। সময়ের ব্যবধানে তার সঙ্গ দিতে জাতীয় দলে আসেন ওয়াকার ইউনুস। পরবর্তীতে তারা দলে কিংবদন্তিদের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে পায় সোহেল তানভীরকে। বর্তমানে তাদের স্থানে রয়েছে মোহাম্মদ আমীর। তাছাড়াও তারা খুব সম্ভবত ভবিষ্যতের জন্যে হাসান আলীকেও খুঁজে পেয়েছে।
  • বীরেন্দার শেহবাগ ভারত জাতীয় ক্রিকেট টিমের একজন সফল ওপেনার ছিলেন। শেহবাগের বিদায়ের পরে রোহিত শর্মা তার দায়িত্ব এখনও পর্যন্ত বেশ সফলতার সাথে পালন করে আসছেন।
  • ব্রেট লি এর অভাব কখনোই অস্ট্রেলিয়াকে বুঝতে দেয় নি মিচেল স্টার্ক।

ভারতের ভবিষ্যৎ ক্রিকেট প্রজন্মের দিকে তাকালে যে নামগুলো আসে সেগুলো হল: রিসাব পান্ত, মানিশ পান্ডে, শ্রেয়াস আইয়ার, ইশান কিশান, সুরিয়াকুমার যাদব, ক্রুনাল পান্ডিয়া। আবার অস্ট্রেলিয়ায় ডার্সি শট, ক্রিস লিন, জোফরা আর্চারদের মতো তরুন খেলোয়ারও দেখা যায়। এরা কখনোই তাদের পারফরমেন্সের দ্বারা পিছিয়ে থাকবে না।

বলতে গেলে প্রায় প্রতিটি দেশই তাদের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের রিপ্লেসমেন্ট পেয়ে গেছেন। তবে হ্যা এটাও সত্য যে স্যার ব্র‍্যাডম্যান, ডিভ রিচার্ড, ব্রায়ান লারা এদের মতো কিংবদন্তিদের রিপ্লেসমেন্ট পাওয়া সম্ভব হয় নি, ভবিষ্যতে সম্ভব কি না তাও সন্দিহান। তবুও তাদের আংশিক বিকল্প কিছুটা হলেও পাওয়া গিয়েছে। তবে তা অবশ্যই হুট করে হয়নি, তার জন্যে নিজেকে গড়ে তুলতে হয়েছে অনেক বছরের চেষ্টা আর সাধনার পর। জ্যামাইকান স্পিড স্টার উসাইন বোল্ট অলিম্পিকের ট্র‍্যাকে ২ মিনিটও দৌড়ায়নি,কিন্তু এর জন্য তাকে পরিশ্রম করতে হয়েছে দীর্ঘ ২০ বছর। এ জন্যে আমাদের আরেকজন সাকিব আর হাসানকে পেতে হলে এখন থেকেই চেষ্টা করা উচিৎ নয় কি?

অবশ্য জনমনে বিশ্বাস এই যে আমাদের মেহেদী হাসান মিরাজ হয়তো সাকিবের অভাব বাংলাদেশকে বুঝতে দিবে না। অবশ্যই তার পারফরমেন্স অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং সকলের প্রত্যাশা মেহেদী বা অন্য কেউ হয়ে উঠুক বাংলাদেশ দলের পরবর্তী সাকিব আল হাসান। শুধু মেহেদী নয়, মোসাদ্দেক, আফিফদের মত অনেক তরুন প্রতিভাবান অলরাউন্ডার রয়েছে আমাদের পাইপ লাইনে। তাই তাদের পরিচর্চা করা প্রয়োজন। আর তা না হলে হয়তো বিশ্ব ক্রিকেটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানই হবে শেষ সাকিব আল হাসান।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।