শিরোনাম
প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » রাশিদ-মুজিবের স্পিনে ঘায়েল সাকিব-তামিমরা!

রাশিদ-মুজিবের স্পিনে ঘায়েল সাকিব-তামিমরা!

প্রকাশ : ৪ জুন ২০১৮১২:৪৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

ভালো শুরু করা আফগান ইনিংসের লাগাম টেনে ছিলেন সাকিব-রিয়াদ। কিন্তু শেষ ৫ ওভারে পেসারদের বাজে বোলিংয়ে চালকের আসন ফিরে পায় আফগানিস্থান। ১ ওভার বল করে ১ রানে ২ উইকেট তুলে নেয়া রিয়াদকে আর আক্রমনে না এনে হয়তো একটু ভুলই করেই ফেললেন সাকিব। ১৬৮ রানের লক্ষে শুরু থেকেই হোচট খেতে থাকে বাংলাদেশ। মুজিব-রাশিদদের বিষাক্ত বোলিংয়ের জবাব দিতে পারেননি মুশফিক রিয়াদের কেউই।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাকিব। ব্যাটিংটা ভালোই শুরু করেছিল শেহজাদ-গনির উদ্বোধনি জুটি। দুইজনের সতর্ক ব্যাটিংয়ে গড়া ৬২ রানের জুটি ভাঙ্গে রুবেলের দুর্দান্ত বলে বোল্ড হয়ে ২৪ বলে ২৬ করা উসমান গনি ফিরলে। এরপর সাকিব নাজমুলরা চেপে ধরেন আফগান ব্যাটসম্যানদের। চাপ সামলাতে না পেরে সাকিবের বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ৩৭ বলে ৪০ করা মোহাম্মদ শেহজাদ। অনেকদিন পক একদশে সুযোগ পাওয়া ১৩তম ওভারে মোসাদ্দেক বোলিংয়ে এসে মাত্র ৩ রান দেন। ঠিক তার পরের ওভারেই রিয়াদের জোড়া আক্রমন। ২য় বলে নাজিবুল্লাহকে রাহির তালুবন্ধি করেন। ঠিক পরের বলেই গোল্ডেন ডাকে মোহাম্মদ নাবিকে ফেরান বোল্ড করে।

এরপর আর স্পিনারদের আক্রমনে আনেননি সাকিব। রুবেল-রাহি-রাজুদের ভরসা করেছিলেন সাকিব। কিন্তু ভরসার দাম দিতে তারা সবাই ব্যার্থ। ১৮ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৩৬ রান করা সেনওয়ারি ফেরেন রাহির বলে মোসাদ্দেকের তালুবন্ধি হয়ে। শেষ ওভারে ৩ উইকেট আসলেও তা আফগান ইনিংসে তেমন প্রভাব ফেলবে না। ৮ বলে ২৪ রান করা আক্রমনাত্মক শফিকুল্লাহকে বোল্ড করে ফেরান রাজু। পরের বলেই রান নিতে গিয়ে মুসফিকের দুর্দান্ত থ্রোর শিকার হন ২৪ বলে ২৫ রান করা অধিনায়ক স্ট্যানিকজাই। ৮ উইকেটে ১৬৭ রানের সংগ্রহ পায় আফগানিস্থান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে মুজিবের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হন তামিম ইকবাল। সাকিব আক্রমনাত্মক শুরু করলেও, আইপিএল সতির্থ নাবির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে টপ এজ হয়ে শেহজাদের তালুবন্ধি হন। ১৫ বলে ১৫ করা সাকিব ফিরলে লিটনকে সঙ্গ দিতে আসেন মুশফিকুর রাহিম। অন্যপ্রান্তে ২০ বলে ৩০ করা লিটনকেও ফেরান নাবি। তবে এলবিডব্লিউটি আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

১০ ওভারে রাশিদ খানের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের পরেও জীবন পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু পরের ওভারে বল হাতে এসে পরপর মুশফিক ও সাব্বিরের উইকেট তুলে নেন রাশিদ। নিজের সবচেয়ে ভয়ানক আস্ত্রটাকে রেখেই দিয়েছিলেন স্ট্যানিকজাই। ১১তম ওভারে, রাশিদের প্রথম বলেই রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন ১৭ বলে ২০ করা মুশফিক। সাব্বির এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন গোল্ডেন ডাকে। মাহমুদউল্লাহ-মোসাদ্দেক জুটি তখন ইনিংসের সম্মান বাঁচাতেই ব্যাস্ত। রান রেট বেড়ে চলেছে, কিন্তু রাশিদের ঘাতক স্পিনে কিছুই করতে পারেনি এই দুই ব্যাটসম্যান।

২৩ বলে ১৪ রানের ধীর ইনিংস খেলা মোসাদ্দেককেও ফেরান রাশিদ খান। উসমান গনির তালুবন্ধি হয়ে মোসাদ্দেক ফিরলে, পরের ওভারে ত্রিপল আক্রমন শাপুর জাদরানের। একি ওভারে রাজু, রিয়াদ ও রুবেলকে ফেরান তিনি। ২৫ বলে ২৯ করা রিয়াদ ফিরলে বাংলাদেশ ইনিংস শেষ হতে বেশি সময় নেয়নি। রাহিতে করিম জানাত রাশিদ খানের তালুবন্ধি করলে ১২২ রানেই অল-আউট হয় টাইগাররা। ৪৫ রানের অসাধারন জয় পায় আফগানিস্থান।

ঘাতক স্পিনের সাথে দুর্দান্ত বোলিং দিয়ে ম্যাচ সেরা হন রাশিদ খান। আগামি ৫ জুন দেহরাদুনেই হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। সাকিব-রিয়াদরা কি পারবে ঘুরে দাড়াতে। তা সময়ই বলে দিবে….!

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।