প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » আমার কথা » সিস্টেম যখন আমাদের বিরুদ্ধে

সিস্টেম যখন আমাদের বিরুদ্ধে

প্রকাশ : ৫ জুন ২০১৮১০:০৮:৪৬ অপরাহ্ন

মালিহা মাহমুদ | বাংলা ইনিশিয়েটর

“নারী-পুরুষে সমতা” কথাটি নতুন নয়। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন ও লড়াইয়ের সংখ্যাও নেহায়েত কম না। একটা মেয়েকে জন্মের পর থেকে তার জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিজের অধিকার আদায়ে লড়াই করতে হয়। পদে পদে সে বাধা-বিপত্তির শিকার হয়। আর এই বাধা আসে পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্র থেকে।

আচ্ছা, একটা দেশ কিভাবে আগাবে, যেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পর্যন্ত মেয়েদের ডোমেইন করছে! ভাবা যায়, যেখানে একটা ছেলের হাতে দেওয়া হচ্ছে ”কৃষি ও অর্থনীতি” বই, অথচ একই বয়সের একটা মেয়ের হাতে দেওয়া হচ্ছে ”গার্হস্থ্য বিজ্ঞান”! অর্থাৎ ছোটবেলা থেকেই, স্কুলের গণ্ডি পার করার আগেই শিক্ষার্থীদের বোঝানো হচ্ছে বাইরে কাজ করার, উপার্জন করার দায়িত্ব ছেলেদের আর মেয়েদের কাজ হলো ঘরে থেকে সংসার সামলানো!

এই শিক্ষা ব্যবস্থা কি শুধু নারীর অধিকার খর্ব করছে? না এভাবে পুরুষের অধিকারও খর্ব হচ্ছে, প্রতিনয়ত স্বপ্নের মৃত্যু ঘটছে। দেখা গেলো একটা ছেলে রান্না করতে পছন্দ করে; শেফ হতে চায়। কিন্তু ছোটবেলা থেকে তাকে শেখানো হয় রান্নার কাজ তোমার না। তুমি হবে তেজী, পরাক্রমশালী, সক্ষম ইত্যাদি ইত্যাদি। এটা তো শুধু একটা উদাহরণ মাত্র। এভাবে কত ছেলের, কত মেয়ের স্বপ্নের মৃত্যু হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই।

আমাদের দেশে বাসে আলাদা ৯টি সিট শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আছে। এটি কি একটি হাস্যকর বিষয় নয়? মহিলাকে শিশু, প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধের ক্যাটাগরিতে ফেলার যৌক্তিকতা কি? মহিলা কি শিশুর মতো অবুঝ না বৃদ্ধের ন্যায় দুর্বল? নাকি তারা ধরে নিয়েছেন মহিলারা প্রতিবন্ধীদের মতো অসম্পূর্ণ! অসহনীয় প্রসব বেদনা সহ্য করে পুরুষকে জন্ম দেন নারী। সেই নারী যাকে আমরা ভাবি অসম্পূর্ণ, দুর্বল!

আমাদের, নারীদের অধিকার আদায়ের লড়াইটা কেবল পরিবার বা সমাজের বিরুদ্ধে না বরং পুরো সিস্টেমের বিরুদ্ধে। আমাদের এই লড়াই সুবিধা আদায়ের নয়, সমতার লড়াই।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।