শিরোনাম
প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » নারী তুমি মূর্খ !

নারী তুমি মূর্খ !

প্রকাশ : ৮ জুন ২০১৮৯:৩১:৪২ অপরাহ্ন

তুষপি ইসলাম ঝুমা
ক’টা মেয়ে বিয়ের আগে ছেলে কে জিজ্ঞেস করে-
-আমিত কবিতা পছন্দ করি, কবিতা পড়ে শুনাতে পারবে তো ?
-চোখে কাজল পরাতে পারো?
-চুল বেঁধে দিতে পারো ?
-খেজুর বেনীটা করতে জানো আর খোপা বাঁধতে জানো তো ?
-শাড়ি পরাতে পারো ?
– আমাকে খাওয়ায় দিতে পারবে তো ?
-তুমি রান্না করতে পারো তো ?
-বাবু লালন পালন করতে পারো ?
-ঘর গুছাতে পারো ?
-আমার বন্ধু হতে পারবে তো ?
-আচ্ছা বিয়ে কেনো করবে বলো তো ?
-আমার প্রতি সম্মানবোধ থাকবে তো?
-সম্পর্ক মানে জানো ?
-ভালোবাসা আর অভ্যাসের মাঝে পার্থক্যটা জানো তো ?

না , একজন নারী এই সাহস করেন না ;
হাতে গুনে সর্বোচ্চ এক/ দুইজন পাওয়া যাবে যারা এই প্রশ্নগুলো করার সাহসিকতা ও মানসিকতা রাখেন। বরং বিয়ের আগে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেন যেন সবকিছুতেই মানিয়ে নিতে পারেন , তার কোন রাগ , ক্লান্তি, ভাল লাগা , ইচ্ছা থাকবে না। এবং তারা তাই করে আসছেন আদি থেকে ।

একজন নারী সন্তান জন্ম দেন , তাকে মানুষ করেন। তার স্বামীর সকল রকম আদেশই পালন করেন বিনা বাক্যে। এক কথায় জীবন্ত রোবট ! আর রোবট কখনো সম্মানের হতে পারে ? এ তো দাশ । আসলেই এসব নারী মূর্খ্য । এদের মাথায় কিচ্ছু নেই ।
বাবু জন্ম দেয়া, তাকে মানুষ করা, একজীবন এর সবটুকু সময় শুধু কিছু মানুষের হুকুম নিষেধ পালন করেই কাটিয়ে দেয়া সত্যি খুব সহজ কাজ, এসব তো যে কেউ ই পারবে।

বলতে পারেন একজন নারী কেনো একজন পুরুষের মত করেই তার সকল পছন্দ, অপছন্দের ফর্দ টা তুলে ধরেন না বিয়ের আগে ? একজন নারীর ও তো অনেকরকম পছন্দ , অপছন্দ থাকতেই পারে; সেও তো মানুষ। কারণ একজন নারী জানেন কীভাবে শূন্য থেকে গড়ে নিতে হয়, সে একটু একটু করেই তার সন্তান কে বড় করে তোলে, শিখিয়ে দেয় আচার-শিক্ষা, এই পৃথিবীতে বাঁচার যোগ্য করে তোলে । শুধু সন্তান নয়, সে তার সংসারকে গুছিয়ে গড়ে নিতে জানে।

মানুষ, সংসার গড়ে তোলার এই কারিগড় কেনো যেন শুধু স্বামীর মন মতই হতে পারেন না, হাজারটা অভিযোগের ফর্দ তার বিরুদ্ধে থেকেই যায়। অধিকাংশ পুরুষের অভিযোগ, তার স্ত্রীর সাথে আলাপ করা যায় না দেশ নিয়ে, দশ নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে, এই নারী এসব কিছুই বুঝে না!

ত্রিশ পেরুলেই পুরুষ কর্মজীবনে প্রবেশ করে, এরপরই বন্ধু বেষ্টনী থেকে কিছুটা শিথিল হতে থাকে। চল্লিশের কোঠায় যেতে যেতেই তার একমাত্র বিশ্বস্ত বন্ধু হয় নিজ স্ত্রী। তখন তাদের অভিযোগ সবচেয়ে কাছের এই বন্ধুটি তাকে একদমই মানসিক স্বস্তি দিতে পারে না। চল্লিশে যেতে যেতেই শরীর নির্ভর যে আকর্ষণ তা আর থাকে না দুজনের। তারপর পারস্পরিক সুখটা নির্ভর করে মানসিক ভালো লাগার ও মানসিকতার মিলের উপর। তখন জ্ঞানীগুণী স্বামী মহোদয় দেখতে পান তিনি যে রূপবতী সরল সোজা রমণীকে বিয়ে করেছেন সে তার বন্ধু হবার উপযুক্তই নয়।

কি অদ্ভূত! যখন ফিজিকেল প্রয়োজন ছিল এবং সে সার্ভিসটা ঠিক ঠাক ছিল তখন কোন অভিযোগ ছিল না, আর যখনি সেটা মন মানসিকতার মিলে রূপ নিল তখনি এটা না পারা, ওটা না জানার সকল ফর্দ এসে হাজির! আর এই যে ৪০ বছর অব্দি একই ছাদের নিচে যে মানুষটার সাথে থেকে আসছেন তখন একবারো মনে হল পাশের নারীটা মূর্খ! আর এত বছর ধরে একসাথে আছেন, তাকে আপনার ভাল লাগাগুলো জানানোই হয় নি, মন মানসিকতার মিল নেই এটা না জেনেই এমন একটা মানুষের সাথে আপনি ৪০ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন!

আর সবচাইতে বড় সত্যি হচ্ছে যে মানুষটাকে না আপনি ভাল করে জানেন, না জানার চেষ্টা করেছেন কখনো সে মানুষটাকেই আপনি চান সে জেনো আপনারই মন মত কেউ একজন হোক!

আচ্ছা নারী কি বাজারের হাস মুরগী? যে কোন রোগ আছে কি না, মাংস ভাল হবে তো শরীরে, বাজারের সবচাইতে সেরাটাই কিনবেন এমন কিছু !

অফিসে পাশের ডেস্ক কিংবা পাশের বাসার ফিটফাট রমণীকে দেখে চাপা দীর্ঘশ্বাস বুকে জমবে এটা এ ধরনের অভিযোগ করা পুরুষদের কাছ থেকে হওয়া স্বাভাবিকই, এতে অবাক হবার কিছু নেই। কেননা এ ধরনের বিকৃত মস্তিষ্কের পুরুষগুলো একটা লম্বা পথ একই ছাদের নিচে তার স্ত্রীর সাথে থেকে ও তাকে ভালোবাসতে পারেন না, এত কিছু সেক্রিফাইস করার পরও সেই স্ত্রীর প্রতি তাদের সম্মান বোধ হয় না, বরাবর প্রয়োজনটাই বড় তাদের কাছে, তাদের জন্য নিজের স্ত্রীকে বাইরের আরেকটা নারীর সাথে তুলনা দেয়া মানে কিছুই না; আরে দেখতে হবেত বাজারের সেরা টা নিয়ে আসতে পেরেছেন কিনা! আর মানুষ তখনই দোষ, ত্রুটি খুঁজেন, অভিযোগ করতে শুরু করে , যখন ওইপাশের মানুষটার প্রতি তার ভেতরে আর কোন ভালোবাসা থাকে না, সম্মান থাকে না ; প্রাপ্তিটাই বড় হয়ে যায়।

ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, সম্পর্ক মানে এই না যে দুজনের সব পছন্দ, অপছন্দ ই এক হতে হবে। দুজনেরই সব কিছু সমানভাবে জানা থাকা লাগবে। সর্বগুনে গুন্বানিত হওয়া লাগবে।

“ perfect man only exist in movies and books because মুভিটা ক’এক ঘন্টার এবং বইটা হাতে গুনা কিছু পাতার; কিন্তু এক জীবন মাত্রাহীন।”(তুষপি)

সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা মানে একে অপরের পছন্দ অপছন্দ গুলোকে শ্রদ্ধা করা, নিজেদের করে নেয়া দুজনেরই পছন্দ অপছন্দকে; কোন কিছু না পারলে , অজানা থাকলে তা শিখিয়ে দেয়া। তাই সারাজীবন যে মানুষটার সাথে কাটাবেন, কাটাচ্ছেন তার সকল ব্যর্থতা, কমতি গুলোকে বড় করে না দেখে তাকে বন্ধু করে নিন, শিখিয়ে নিন, সকল পছন্দ- অপছন্দ গুলো দিয়ে অভিযোগের ফর্দ না করে নিজেরাই একে অপরের পছন্দ- অপছন্দগুলো শেয়ার করুন, সেক্রিফাইস করুন এবং একে অপরকে শ্রদ্ধা করুন।

***প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ইনিশিয়েটর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ইনিশিয়েটর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।