প্রচ্ছদ » অনিয়ম » ফুট ওভারব্রীজ নাকি অপকর্মের অবাধকেন্দ্র!

ফুট ওভারব্রীজ নাকি অপকর্মের অবাধকেন্দ্র!

প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৮৯:০২:০৫ অপরাহ্ন

সামি আল সাকিব | বাংলা ইনিশিয়েটর

-দূর থেকে দেখে ঢাকার অন্য আর আট-দশটি সাধারণ ফুটওভার ব্রিজের মতোই মনে হবে। কিন্তু কাছে যেতেই ভুল হবে সেই ধারণা। ফুটওভারটির ঠিক পাশ দিয়েই সুয়ারেজ লাইন। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের ফলে যা ভেঙে গিয়ে ছড়াচ্ছে উৎকট গন্ধ।

ফুটওভারটির কাছে যেতেই দেখা মিলবে নানাধরনের খাপছাড়া জিনিসের। সিড়ির নিচেই মিলবে অসংখ্য সিগারেটের খোসা, ব্যবহৃত ইনজেকশন সিরিন্জ, বিভিন্ন নেশাদ্রব্যের খোসা, প্যাকেট, ব্যবহৃত যৌনক্রিয়া সামগ্রীসহ নানা ধরনের খাপছাড়া বস্তুর। সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই চোখে পড়বে অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণীদের অসামাজিক কার্যকলাপের। তাদের ডিঙিয়ে ওপরে ওঠা প্রায় অসম্ভব। উপরে উঠেই দেখা মিলবে বখাটে ও লাগামহীন উচ্চবিত্ত তরুণ-তরুণীদের। এদের কেউবা নেশায়, কেউবা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত। আবার স্থানীয় সন্ত্রাসী, চোর-ডাকাতদেরও প্রিয় আড্ডার স্থান এটি। ফলে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলা কোনো পথচারী এটি ব্যবহার করেন না।

রাতের বেলার চিত্র তো আরও ভয়াবহ। চলাচলের সুবিধার জন্য নেই কোনো আলোর ব্যবস্থা। তার ওপর ফুটওভারটির দু’ধার ঘেঁষে স্থানীয় নেতাদের বিশাল বিশাল রাজনৈতিক, শুভেচ্ছা ব্যানার সাঁটানো থাকায় রাতে জন্ম দেয় এক ভূতুড়ে পরিবেশের। রাত বেশি হলেই নামে পতিতাবৃত্তি, নেশাগ্রহণ ও নানাধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের আসর। রাতের বেলা ভুলেও যদি কোনো পথচারী ব্রিজটিতে উঠে পড়ে তবে সাথে থাকা অর্থ বা মূল্যবান জিনিস নিয়ে নিরাপদে ফেরত আসার নেই কোনো নিশ্চয়তা।

বলছি রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা কাফরুল মিরপুর-১৩ নাম্বার এর সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবন “ন্যাম গার্ডেন” সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজটির কথা। যার একদিকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তাদের বাসভবন, মিরপুর বিআরটিএ, আর অন্যদিকে সরকারি আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল, এস ও এস হারমান মেইনার কলেজ, স্কলাসটিকা স্কুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নামীদামী প্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত।

সিড়ির নিচে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সিগারেটের খোঁসা

এ বিষয়ে এক পথচারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, “ফুটওভারটির অদ্ভুত পরিবেশ আর বখাটেদের ভয়ে আমি যথাসম্ভব এর ব্যবহার থেকে বিরত থাকি।”

এ বিষয়ে আরো জানতে এক ভ্রাম্যমাণ দোকানিকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “এই ব্যাপারে কী আর বলবো, দিনের বেলা যাও মোটামুটি অবস্থা থাকে রাতে তার অর্ধেকও থাকে না, রোজই রাত দীর্ঘ হলেই নামে নানা ধরনের অপকর্মের আসর”।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় স্থানীয় পুলিশ ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা এ ব্যাপারে অবগত হলেও এ নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। বরং একটি নির্দিষ্ট মহলকে নিয়মিত চাঁদা দিয়েই নির্বিঘ্নে চলছে এসব অপকর্ম। আর সমাজের এসব হর্তাকর্তাদের এমন দায়সারা আচরণে আরো লাগামহীন হয়ে পড়ছে এসব দুষ্কৃতকারীরা। ফলে আশ-পাশের এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণীদের মনে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হবার পাশাপাশি এলাকাবাসীর কাছে এক ভয়ংকর স্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে পথচারীদের পথ পারাপার নির্বিঘ্ন করতে নির্মিত এই ফুটওভার ব্রিজটি!

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।