প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারলো আর্জেন্টিনা!

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারলো আর্জেন্টিনা!

প্রকাশ : ২২ জুন ২০১৮৩:২০:১৭ পূর্বাহ্ন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

ম্যাচের শুরুর আগেই আজকের ম্যাচকে ‘সহজ’ বলে ঘোষণা দিয়েই মাঠে নেমেছিল ক্রোয়েশিয়া। তখন কথাটা পাগলের প্রলাপ মনে হলেও তাই প্রমান করে দেখালো মদ্রিচ-রাকিতিচরা। আর্জেন্টিনা নিয়ে রীতিমত ছেলে খেলা করে নক-আউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে ক্রোয়েশিয়া। অথচ ম্যাচ শুরু আগে ‘আর্জেন্টিনার জয় অথবা ড্র’ এই দুই ফলাফলের বাইরে কিছু ভাবাটাই যেন বোকামি মনে হচ্ছিল।

আর্জেন্টিনার ‘নাম্বার টেন’ মেসি আজও তেমন জ্বলে উঠতে না পারলেও ক্রোয়েশিয়ার ‘নাম্বার টেন’ মদ্রিচ ছিল প্রাণবন্ত। বেশ কয়েকবার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি দলের প্রান মেসি। আবার কয়েকবার সুযোগ করেও তা গোলে রূপ দিতে পারেননি সতির্থদের ভুলে কিংবা ক্রোয়েশিয়ার শক্ত রক্ষনভাগের কারনে। আর অন্যদিকো সময়ের অন্যতম সেরা মিড ফিল্ডার মদ্রিচ বরাবরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিজ হাতে নিয় রেখেছিলেন। একের পর এক আক্রমনে আর্জেন্টাই ডিফেন্সকে ঘায়েল করেছেন। দুর্দান্ত একটি শটে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সুন্দর গোলটিও করেছেন।

আর্জেন্টিনাকে অবিশ্বাস্যভাবে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের পরিসংখ্যানেও দুই দল কাছাকাছি। কিন্তু আর্জেন্টিনা রক্ষনের হঠায় ভুলগুলোই এমন অবিশ্বাস্য স্কোরের কারন। ক্রয়েশিয়ার ১৪ শটের বিপরিতে আর্জেন্টিনা ১০। টার্গেটে ক্রোয়েশিয়া শট নিয়েছে ৫ বার আর আর্জেন্টিনা ৩। কিন্তু সাম্পাওলির চমকময় নতুন একাদশ গোল করতেই ব্যার্থ। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা পরিকল্পনার অভাব ছিল স্পষ্ট। ২০ মিনিটে দলের মূল স্ট্রাইকার আগুয়েরোর পায়ে বলই দেখা যায় নি। দুই দলেই জোড়াধিক সুযোগ পেয়েও ব্যার্থ হয়েছে। প্রথমার্ধ এভাবেই কেঁটে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই দুই দল বেশ আক্রমনাত্মক। ৫৩ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল আসে আর্জেন্টাইন কিপার কাবাল্লেরোর ভুলে। হালকা পাস দিতে গিয়ে ডি বক্সের মধ্যেই রেবিকের পায়ে বল দিয়ে বসেন। হাওয়াতে থাকে বলেই শট নিয়ে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন রেবিক। আত্মহত্যা সমতূল্য গোল হজম করতে পারছিল না আর্জেন্টিনা। তাই বারবার ফাউল আর হলুদ কার্ডে প্যাচে আটকে যাচ্ছিল মেসি-দিবালাদের গতি। অনেক চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা করতে পারছিল না মেসিরা। বারবার একটুর জন্য গোল করতে ব্যার্থ হচ্ছিল, একের পর এক শ্বাসরুদ্ধকর শট নিচ্ছিল দিবালারা।

আর্জেন্টিনা যখন সমতায় ফেরার চেষ্টায় তখন ক্রোয়েশিয়া ব্যাবধান দ্বিগুন করার। ৮০ মিনিটে মদ্রিচ ঠিক তাই করলো। ডি বক্সের বাইরে ছিলোন। শট নিতে অনেকটা সময়ও নিয়েছেন। কিন্তু তাকে ব্লক করতে কেউ না আসায় বেশা আরামেই দুর্দান্ত এক শট নিয়ে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে দেন। একদিকে সময় শেষ হবার পথে, অন্যদিকে ব্যাবধান দ্বিগুন হয়ে যাওয়ায় মেসি যেমন হতাশ ছিলেন, তেমনি গ্যালারিতে বসে থাকা ম্যারাডোনাও। সময় যখন শেষের দিকে ৯১ মিনিটে আর্জেন্টিনার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন রাকিতিচ। কর্নার থেকে বল পেয়ে শট নেন। কিপারের হাতে লেগে বল যায় কোভাচিচের পায়ে। তার পাস থেকে ফাঁকা গোলে বল ঢুকিয়ে ইতিহাসে নিজের নামটাও লিখিয়ে নিয়েছেন রাকিতিচ।

২ ম্যাচের দুটিতেই জয় নিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে নক আউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে ক্রোয়েশিয়া। অন্যদিকে অনেকটা বিপদেই আর্জেন্টিনা। নক আউট পর্বে যেতে হলে, মিলাতে হবে কঠিন সমিকরন। পরের ম্যাচে নাইজেরিয়াকে হারাতেই হবে। আর কালকে নাইজেরিয়া যদি আইসল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় তাহলেই কপাল খুলবে মেসিদের।

গ্রুপ ‘ডি’-এর পয়েন্ট টেবিল :

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।