প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » হতাশ মুখে বিশ্বকাপ শেষ করলো সালাহ!

হতাশ মুখে বিশ্বকাপ শেষ করলো সালাহ!

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৮১২:৩৩:২২ পূর্বাহ্ন

খাতুনে জান্নাত | বাংলা ইনিশিয়েটর


আজ সালাহকে দেখে মনে হচ্ছিলো ম্যাচের পরিণতি সে আগেই বুঝতে পারছে। তাই বোধহয় প্রথম গোল করার পর উদযাপনেও তেমন কোনো আনন্দ দেখা যাচ্ছিলো না। তার অভিব্যক্তিকে বদলানোর কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়ে ২-০ গোলের ব্যবধানে ম্যাচকে নিজেদের করে নেয় সৌদি আরব।

যদিও এই জয়-পরাজয়ে কারোই কিছু যায়-আসে না। কারণ এই ম্যাচের আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে দু-দলেরই। তবুও ২০১৮ বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয় পেলে তা স্মরণীয় হয়ে থাকারই কথা যেকোন দলের কাছে। সৌদি আরব পারলো ম্যাচটিকে নিজেদের কাছে স্বরণীয় করে রাখতে, কিন্তু সালাহ’র মিশর? নাহ্, তা আর এবার সম্ভব হলো না! বরং তার হতাশ চোখমুখ দেখে হতাশায় ডুবলেন মিশর সমর্থকেরাও।

আজ বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় ভোলগাগ্রাদে মিসরকে ২-১ গোল হারায় সৌদি আরব। ২২ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহর গোলে এগিয়ে যায় মিসর। সালমানের গোলে সৌদি আরব সমতায় ফেরে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। ম্যাচটি জিতেছে তারা ৯০ মিনিটের যোগ করা সময়ে। জয়সূচক গোলটা করেছেন সালেম। প্রথম ২০ মিনিটে মিসর খুব একটা আক্রমণ রচনা করতে পারেনি, যেটা সৌদি আরব করেছে। সৌদির আক্রমণ যদিও সুসংঘবদ্ধ ছিল না। মিসরের সবচেয়ে বড় সুযোগটাই আসে ২২ মিনিটে। প্রায় মাঝমাঠ থেকে দেওয়া আবদাল্লাহ সাইদের ক্রস দ্রুতগতিতে দৌড়ে দুই সৌদি ডিফেন্ডারকে হার মানিয়ে রিসিভ করেই গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে আলতো টোকায় দৃষ্টিগ্রাহী এক গোল। মিসরকে এগিয়ে নেন দলের বড় তারকা সালাহ।

সালাহ স্কোরলাইন ২-০ করে ফেলার দারুণ এক সুযোগ পেলেন মিনিট দুয়েক পরেই। ত্রেজেগের ডিফেন্স চেরা পাসটা নিয়ে এগোতে থাকলেন সৌদির গোলপোস্টের দিকে। সামনে শুধু গোলকিপার, এ সুযোগটাই কিনা কাজে লাগাতে পারেননি লিভারপুল তারকা! সালাহ গোলটি যদি করতে পারতেন, ম্যাচটা অন্তত হারতে হতো না মিসরকে। অবশ্য মিসরের সমর্থকেরা কাঠগড়ায় সবার আগে তুলবেন ত্রেজেগেকে। মিসরীয় মিডফিল্ডার যেন সুযোগ হাতছাড়া করতেই আজ মাঠে নেমেছেন। ৩৩ ও ৩৪ মিনিটে দারুণ দুটি সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। ৩৪ মিনিটের সুযোগটা হাতছাড়া করাকে মেনে নেয়া বেশ কষ্টসাধ্যই বটে!

ত্রেজেগের আফসোস কিছুটা কমার কথা সৌদি আরবের ফাহাদ আল-মুয়াল্লাদকে দেখে। বক্সে আহমেদ ফাতেহির হ্যান্ডবল হওয়ায় পেনাল্টি পায় মিসর। মিসরের গোলরক্ষক এসাম এল-হাদারি ঠেকিয়ে দিলেন ফাহাদের পেনাল্টি। তবু শেষরক্ষা হলো না মিসরীয়দের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে বক্সে আলী গাবর ফাউল করলেন ফাহাদকে। ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি রিভিউ হলো। এবার সৌদি হাতছাড়া করেনি। সালমান আল ফারাজ পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরালেন দলকে।

দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি বেশ কবার হানা দিয়েছে মিসরের রক্ষণে। মিসর সে তুলনায় সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে কম। সালাহকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে রাখে সৌদির মাঝমাঠ ও রক্ষণ। তবে ত্রেজেগে যথারীতি হাতছাড়ার ধারাটা ধরে রাখেন। ৯০ মিনিটেও ম্যাচের ফল ১-১। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরা সৌদি যেন আজ জার্মানির পথ অনুসরণ করল। ৯০ মিনিটের যোগ করা সময় প্রায় শেষের দিকে, এ সময়ে বক্সে অসাধারণ বিল্ডআপে সালেম আল-দাওসারির ফিনিশিং। ব্যাস, জয় নিশ্চিত হলো সৌদিদের!

সালাহের ভক্তরা যেখানে সালাহের হাসিমুখ দেখার আশা করেছিলেন, সেখানে তিনি ভক্তদের বেশ খানিকটা নিরাশ করলেনই বটে! অবশ্য সালেমের ডিগবাজি খেয়ে চমৎকারভাবে গোল উদযাপনটা সবার জন্য বেশ আনন্দের খোরাক হয়েছিলো!

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।