প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » সোনালি কাপের স্বপ্নভঙ্গ মেসির!

সোনালি কাপের স্বপ্নভঙ্গ মেসির!

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৮১০:৩২:০১ অপরাহ্ন

খাতুনে জান্নাত | বাংলা ইনিশিয়েটর


এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তেজনাকর খেলার তালিকা করা হলে আজকের ম্যাচটি অবশ্যই শীর্ষে থাকবে! ফ্রান্স যেমন পুরো মাঠে দাপিয়ে বেড়িয়েছে, আর্জেন্টিনাও করেছে তার প্রতিরোধ। তবে রাউন্ড সিক্সটিন থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা আর হলো না মেসি-ডি মারিয়াদের। এবারের আসর থেকে বিদায় নিতে হলো ৩-৪ এর অপ্রাপ্তি নিয়েই।

দিনটা আজকে ফ্রান্সেরই ছিল। না না, পুরোপুরি ফ্রান্সের বললেও ভুল হয়, বলা উচিত দিনটা আজকে এমবাপ্পের ছিল। ফ্রান্সের ৪ টি গোলের দুটোই এই তরুণের পা থেকে বেড়িয়েছে! বিশ্বকাপ মঞ্চে এই প্রথম ২০ বছরের নিচে কোনো খেলোয়াড় এক ম্যাচে দুই গোল করলো।

কাজান আজ সাক্ষী থাকলো এক শ্বাসরুদ্ধকর সময়ের। ১৩ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি গোল করে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। নায়ক – আঁতোয়ান গ্রিজমান। দারুণভাবে তা শোধও করে আর্জেন্টিনা। খেলার একেবারেই স্রোতের বিপরীতে ৪১ মিনিটে বক্সের বেশ বাইরে থেকে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার আচমকা শটে এগিয়ে সমতা ফিরিয়েছিল তারা। ১-১ সমতায় শেষ হওয়া অর্ধে ম্যাচে দাপটে তখনো ফ্রান্স এগিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটেই বক্সে মেসির শট ফ্লিক করে জালে জড়িয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল মারকাদো। পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাই তখন এগিয়ে। ২-১! আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে তখন গ্যালরিতে এক নীল-সাদার স্রোত নেমে আসে।

কিন্তু ফ্রান্স চাপে ভেঙে পড়েনি। খেলার ধারও কমায়নি। উল্টো আর্জেন্টিনা একটু বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে গেল। আর সেই সুযোগে ৫৭ থেকে ৬৮, এই ১১ মিনিটে আর্জেন্টিনার জালে তিন গোল! ৫৭ মিনিটে পাভার সমতা ফেরালেন। এরপর এমবাপ্পে শো! ৬৪ আর ৬৮ মিনিটে এই তরুণের জোড়া গোলে ম্যাচ তখনই শেষ! ম্যাচের পরের ১৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা যা করল, তা শুধুই গোল না-খাওয়ার চেষ্টা। গোটা দুই আক্রমণ নিষ্ফলা থাকল গোলমুখে গিয়ে গড়বড় করে ফেলায়।

ফ্রান্স চার গোল করার পরও খেলার গতি তো একটুও কমায়ই নি, বরং তখন আক্রমণাত্বক ছিল! পুরো মাঠজুড়ে ছিল ফ্রান্সের দাপট। শেষ মিনিট কয়েক আর্জেন্টিনা মরণপণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেনি। এই না-পারার পেছনে আছেন মেসিও। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে বক্সে একটা শট নিয়েছিলেন। সেখানেও স্কোরটা ৪-৩ হলে আর্জেন্টিনা আরেকটি অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের আশা করতে পারত। পরের মিনিটে বক্সে আবারও তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া বলে সার্জিও আগুয়েরো ফিনিশিংটা করতে পারেননি। আগুয়েরো যখন পারলেন, ততক্ষণ ম্যাপ প্রায় শেষ। যোগ করা সময়ে মেসির লম্বা বল থেকে মাথা ছুঁইয়ে হেড থেকে ৪-৩ গোল আগুয়েরো। শেষ বাঁশির আগে বক্সের জটলায় আর্জেন্টিনা আরেকটি সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু হতাশায় ভরা আরেকটি ভুল শট ছাড়া কিছুই দিতে পারলেন না তারা!

আজকের ম্যাচেই ফ্রান্স ভালোভাবেই জানান দিয়ে দিলো, এবারের বিশ্বকাপে তাদেরকে ছোট করে দেখার কোনোই সুযোগ নেই! শেষ আটে উঠে যাওয়া ফ্রান্স এবারের বিশ্বাকাপের অন্যতম ফেবারিট, আর যেকোনো দলের জন্যেই ভয়ের কারণ। আর মেসির আর্জেন্টিনা? হতাশায় আরও একটা বিশ্বকাপ কেটে গেল মেসির! বিশ্বজয়ের স্বাদ পাওয়ার স্বপ্ন অন্তত এবারের জন্য তো ভঙ্গ হলোই!

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।