প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » রোনালদোর স্বপ্ন চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন কাভানি!

রোনালদোর স্বপ্ন চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন কাভানি!

প্রকাশ : ১ জুলাই ২০১৮১:৩৫:০৩ অপরাহ্ন

খাতুনে জান্নাত | বাংলা ইনিশিয়েটর


হয়তো এটিই তাদের শেষ বিশ্বকাপ। ফুটবলের আকাশে অনন্য দুই নক্ষত্র – মেসি ও রোনালদোর কথা বলছি। আগের ম্যাচে বিদায় নিয়েছে মেসির আর্জেন্টিনা, আর এই ম্যাচে রোনালদোর পর্তুগাল। পর্তুগালকে ২-০ গোলে হারিয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। উরুগুয়ের হয়ে দুটো গোলই করেছেন কাভানি। আর এর মাধ্যমেই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে নিলো দলটি।

পেপে-ফন্তে-পেরেইরাদের রক্ষণ যে প্রথমার্ধেই সুয়ারেজ-কাভানি জুটিকে আটকে রাখতে পারেনি। ৭ মিনিটে দলীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতায় বাম প্রান্ত থেকে বাতাসে ক্রস ভাসিয়েছিলেন সুয়ারেজ। উদ্দেশ্য ডান প্রান্তে বক্সের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা কাভানি। উরুগুয়ে স্ট্রাইকার যেন ওত পেতে ছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, কাভানিকে বাধা দেওয়ার মতো পর্তুগিজ রক্ষণে কেউ ছিল না! সুযোগ বুঝে কিছুটা লাফিয়ে দারুণ হেডে বলটা জালে পাঠাতে তাঁর কোনো সমস্যাই হয়নি।

৬২ মিনিটে আবার কাভানির গোল! এবারও পর্তুগালের এক ডিফেন্ডারের ভুল হেডের সুযোগ নিয়ে ফার্নান্দো স্যান্টোসের রক্ষণভাগকে চেপে ধরেন সুয়ারেজ-বেনতাঙ্কুর-কাভানি। পর্তুগিজ বক্সের সামনে ডান প্রান্ত থেকে বেনতাঙ্কুরের ডিফেন্স চেরা পাসকে কাভানি যেভাবে গোলে পরিণত করেছেন তা ‘লা সেলেস্তে’ সমর্থকদের মনে থাকবে অনেক দিন।

কোণটা দুরূহ ছিল, কাভানি তাই বুটের ডগা দিয়ে বাঁকানো শটে বলটাকে স্রেফ বাতাসে ভাসিয়ে গেঁথে দেন পর্তুগিজ সমর্থকদের হৃদয়ে। বলটা জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেটা পর্তুগিজ সমর্থকদের বুকে শেল হয়েই বিঁধেছে। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় উরুগুয়ে। তার আগে ৫৫ মিনিটে হেডে সমতাসূচক গোল করে পর্তুগালের আশা জিইয়ে রেখেছিলেন পেপে। কিন্তু সেই আশার অপমৃত্যু ঘটেছে কাভানির দুর্দান্ত গোলে। যোগ করা সময়ে পর্তুগাল গোল করার দুটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি।

৭০ মিনিটের পরপরই খোঁড়াতে দেখে তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেন তাবারেজ। কাভানির মাঠ ছাড়ার দৃশ্যটিও মনে রাখবেন ফুটবলপ্রেমীরা। উরুগুয়ে স্ট্রাইকার মাঠের বাইরে গেছেন রোনালদোর কাঁধে ভর করে—ফ্রেমে বেঁধে রাখার মতো এক মুহূর্ত!

এরপর বেশকটি গোলের সুযোগ পেয়েছে পর্তুগাল। বিশেষ করে ৮০ মিনিটের পর থেকে তাঁরা বার বার আক্রমণ করেছে উরগুয়ে রক্ষণে। পাওলো গেরেরে তো ফাঁকা পোস্ট পেয়েও বল মেরেছেন উড়িয়ে। উরুগুয়ে গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা বক্সের জটলার মধ্যে ‘গ্রিপ’ করতে ব্যর্থ হলে বল পেয়ে যান গেরেরো। পোস্ট ফাঁকা পেয়েও তিনি কীভাবে বল বাইরে মারলেন তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। এ ছাড়া যোগ করা সময়ে রিকার্ডো কারেসমার শট তো প্রায় ঢুকেই যাচ্ছিল জালে। কিন্তু গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার দৃঢ়তায় উরুগুয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পায়।

তাবারেজের রক্ষণ কতটা শক্তিশালী তার প্রমাণ পরিসংখ্যান। গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি উরুগুয়ে। এই ম্যাচে পেপের গোলটি ছাড়া উরুগুয়ে রক্ষণের ভুল নেই। তবে রোনালদো এই রক্ষণ ভাঙতে কম চেষ্টা করেননি। গোটা ম্যাচে তিনি ৬টি শট নিয়েছেন, যা গোটা উরুগুয়ে দলের নেওয়া শটসংখ্যার চেয়ে একটি বেশি। কিন্তু উরুগুয়ের গোলপোস্টে রাখতে পেরেছেন মাত্র ২টি শট। প্রথমার্ধে বলে মোট ২৪টি ‘টাচ’ করেছেন রোনালদো। কিন্তু এর একটাও উরুগুয়ে বক্সের মধ্যে নয়।

৩৩ বছর বয়সী রোনালদো এবং ৩১ বছর বয়সী মেসি তারকারা হয়তো আজ কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। কারণ, এই দুজনের বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায়ঘন্টা সম্ভবত আজই বেজে উঠলো! শেষ ১৬ দিয়েই তবে শেষ হলো এই দুই তারকার অন্তিম বিশ্বকাপ?

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।