প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » নিজের ঘর থেকেই শুরু হোক সুশিক্ষা!

নিজের ঘর থেকেই শুরু হোক সুশিক্ষা!

প্রকাশ : ১ জুলাই ২০১৮১:৫১:৩০ অপরাহ্ন

ফারাবী রহমান আলিফ | বাংলা ইনিশিয়েটর


শিশুদের প্রথম পাঠশালা তাদের ঘর। আপনি আপনার শিশুকে যত ভালো স্কুলেই ভর্তি করান না কেন, আপনার শিশু কিন্তু সবার প্রথমে আপনার থেকেই শেখে! আপনি মানুন কী না মানুন, আপনার শিশুর প্রথম শিক্ষক আপনি।

বাবা-মায়ের কাছ থেকেই সন্তানের শিক্ষার হাতেখড়ি। সকল কিছুতেই সে বাবা-মাকেই অনুকরণ করে। বাবাকে কথায় কথায় গালাগালি দিতে দেখলে, সিগারেট মদ খেতে দেখলে, মায়ের সাথে ঝগড়া, মারামারি করতে দেখলে শিশুর মনে কী রকম প্রভাবে পড়ে একবার ভেবে দেখেছেন? অথচ বাংলাদেশের বহু পরিবারে এরকম দৃশ্য দেখে হরহামেশাই শিশুরা বড় হয়। যা পরবর্তীতে তাদের বিকাশে ব্যাপক বাধাগ্রস্ততা সৃষ্টি করে।

মনে রাখবেন, আপনি যা করবেন, আপনার অনুকরণপ্রিয় সন্তানটি কিন্তু আপনার থেকে শিখে তাই তাই করবে। কারণ আপনিই তার আদর্শ। সন্তানকে শেখানোর জন্য কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে। তখন আপনি যতই তাদের সিগারেট, মদ খাওয়া ভালো না এসব কথা যতই বলুন না কেন, তার ওপর কোনোই প্রভাব পড়বে না। জন্মের পর সে আপনার কাছ থেকেই শিখবে কীভাবে সুন্দর করে কথা বলতে হয়, কীভাবে সুন্দর করে হাঁটতে হয়। একজন ছাত্র যেমন তার শিক্ষক কে অনুকরণ করে ঠিক তেমন একজন সন্তান তার পরিবারের মানুষগুলোকে অনুকরণ বেড়ে উঠে। আপনি যদি নিজে ঠিক না হয়ে তাকে তাকে একটা জিনিস করতে বলেন সে কিন্তু পারবে না। সে আপনাকেই অনুকরণ করবে।

ধরুন আপনার পরিচিত কোন মানুষ আপনার সাথে দেখা করার জন্য আপনার বাসায় আসলো। কিন্তু আপনি তার সাথে দেখা করতে চান না। আপনি নিজের সন্তানকে বলতে বললেন, “তোমার কাকুকে গিয়ে বলে দাও বাবা বাসায় নেই।” এখন আপনিই ভাবুন আপনার কাছ থেকে আপনার সন্তান কী শিখলো! মিথ্যা বলা?

একবার এক লোক তার বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছিলো। তার বাবা তার সামনে অনেক আকুতি মিনতি করছিলেন। বলছিলেন, আমি এই বৃদ্ধ বয়সে কোথায় যাবো? আমাকে বের করিস না বাবা।

শীতের দিন ছিল। সে তার বাবাকে গায়ে জড়ানোর জন্য একটা কম্বল দেয়। তখন তার ছেলে বলে, “বাবা, দাদুর কম্বল থেকে অর্ধেক আমি রাখব, কারণ যখন আমি তোমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেব, তখন এই কম্বল কাজে লাগবে। ছেলেটির দাদু চোখ বড়-বড় করে দেখতে থাকে এবং লোকটি বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে সসম্মানে ঘরে নিয়ে আসেন।

এক বাবা তার সন্তানকে বলেন, “বাবা মনে রাখবে আল্লাহ সর্বত্র আছে।” ছেলেটির মনে কথাটি রয়ে যায়।

একদিন তার বাবা চুরি করার জন্য তার ছেলেকে নিয়ে যায় এবং তাকে একটা জায়গায় রেখে দিয়ে বলে কেউ আসছে কিনা দেখতে। তারপর তার বাবা চুরি করা শুরু করে। একটু পর তার ছেলে বলে, “বাবা! কেউ দেখছে!” তার বাবা তাড়াহুড়ো করে ক্ষেত থেকে বাইরে বেরিয়ে এলো এবং বললো, “কে দেখছে? কাউকেই তো দেখতে পাচ্ছিনা!” ছেলেটি বলে, “বাবা, আল্লাহ। আল্লাহ দেখছে বাবা। তুমিই তো বলেছিলে আল্লাহ সর্বত্র, আল্লাহ সব দেখেন।” ছেলেটির কথা শুনে বাবা লজ্জা পায় এবং চুরি না করে বাসায় ফিরে যায়। ভবিষ্যৎ এ সে আর কখনো চুরি করে নি।

বাচ্চারা সাধাসিধা সহজ সরল হয়, একটা খালি প্লেটের মত, তার ওপর যেভাবে লেখা হবে তার মনে সেই রকমই ছাপ পড়বে। আমরা যা করবো তারা প্রতিটা কাজকে অনুকরণ করবে। মা-বাবার এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে করে সন্তানের মনে তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। মনে রাখতে হবে, বিদ্যালয় নয়, বাচ্চাদের প্রথম পাঠশালা তাদের ঘর। সুতরাং ঘর থেকে বাইরে বের করার আগে তাদের আদর্শ মানুষ হিসেবে তৈরী করে বের করুন। একদিন দেখবেন আপনার সন্তান আপনাকে নিয়ে সত্যিই গর্ববোধ করবেন এবং সেও একদিন তার সন্তানকে আপনার মতো করেই শিক্ষা দেবে। আর এভাবেই আপনার সন্তান আপনার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতীর জন্য অনন্য ভূমিকা পালন করবে।

If we want a better future of this nation, we need to care about our children first. Because one of them will take the responsibility of this Nation. প্রতিটি শিশুর সবার আগে প্রয়োজন একটা সুন্দর পরিবেশের। যেখান থেকে সে শিখবে শ্রদ্ধা করা, শিখবে বিপদে রুখে দাড়ানো, শিখবে হার না মানা, শিখবে দায়িত্ব নেয়ার মূল্য, শিখবে খারাপ-ভালোর তফাত।

একটা শিশু বুঝতে শুরু করে বা তার বিবেক ৮০% কাজ করা শুরু করে তার ৬ বছরের মাঝেই। তাই মা-বাবার ভূমিকা তার বিকাশের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই এড়ানো সম্ভব নয়। তাই পাঠশালায় দেয়ার আগে আপনি নিজেই আপনার শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করুন। কী, করছেন তো?

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।