প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » উরুগুয়ের যাত্রার সমাপ্তি ঘটালো ফ্রান্স!

উরুগুয়ের যাত্রার সমাপ্তি ঘটালো ফ্রান্স!

প্রকাশ : ৭ জুলাই ২০১৮১:৩৯:২৮ পূর্বাহ্ন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমনটা আগে আর কখনো দেখা যায় নি; একই দল নক আউট পর্ব থেকে বিদায় দিল আর্জেন্টনা আর উরুগুয়েকে! সেই দলটি হলো ফ্রান্স, এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট।

আজ ফ্রান্স বনাম উরুগুয়ের খেলায় কেউ ধারণা করতে পারছিলেন না কী হতে চলেছে। কারণ আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালকে বিদায় জানানো এই দুই দলের মধ্যে কে যে আজ হাসতে চলেছে তা বলা বেশ মুশকিলই বটে। তবু উরুগুয়ে সমর্থকদের চিন্তার কারণ ছিল কাভানির না খেলতে পারা। সে কারণেই কি আজ উরুগুয়ের ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলে পরাজয়?

দুই অর্ধে ফ্রান্সের হয়ে গোল করেছেন মাদ্রিদের দুই খেলোয়াড়। ৪০ মিনিটে রিয়ালের রাফায়েল ভারান, ৬১ মিনিটে অ্যাটলেটিকোর আঁতোয়ান গ্রিজমান। এডিনসন কাভানির শূন্যতায় প্রথম মিনিট থেকে ভুগতে থাকা উরুগুয়ে ম্যাচে ফেরার একটিই সুযোগ পেয়েছিল। ডিফেন্ডার মার্টিন কাসেরেসের হেডটি জালে জড়িয়ে গেলেই সমতায় ফিরতে পারত উরুগুয়ে। বলটি ঠিক গন্তব্যেই যাচ্ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বলটা ঠেকিয়ে দিলেন হুগো লরিস।

উরুগুয়ে গোল দিতে না পারলেও এমবাপ্পেকে নিয়ে যে পরিকল্পনা করে মাঠে নেমেছেন, তা তাদেরকে দেখেই বোঝা গিয়েছে। এমবাপ্পে আজ ছিলেন বাক্সবন্দী। তবে আজ এমবাপ্পে বন্দী থাকার পুরো সুবিধাটা তুলে নিলেন গ্রিজমান। দুটি গোলেই নাম জড়িয়ে আছে তাঁর। ভারানের গোলটি তাঁর ফ্রিকিক থেকে। গ্রিজমানের ফ্রিকিক থেকে হাওয়ায় ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করছিলেন উরুগুয়ের ডিফেন্ডার। কোত্থেকে চিলের মতো ছোঁ মেরে হেড দিয়ে দিলেন ভারান!‍ দ্বিতীয় গোলটিও গ্রিজমানের একক কৃতিত্ব নেই। বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া তাঁর শট এমন আগুনে গোলার মতো কিছু ছিল না। রেগুলেশন সেভ যাকে বলে। কিন্তু গোলরক্ষক মুসলেরা মুচলেকা দিলেন শিশুতোষ ভুলের। দুই হাতে পাঞ্চ করতে গিয়ে বল উল্টো ঠেলে দিলেন জালে! এমন এক গোল হলো, সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা গোলটা হয়েও উদ্‌যাপনের আগ্রহ পেলেন না গ্রিজমান!

কিংবা হয়তো উরুগুইয়ান ভাইদের কথা ভেবে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছেন। অ্যাটলেটিকোতে খেলার সুবাদে গডিন-হিমেনেজের সঙ্গে তাঁর দারুণ সম্পর্ক। সুয়ারেজের সঙ্গেও খাতির ভালো। আজ অবশ্য লুইস সুয়ারেজ পুরো ডুবিয়েছেন। বিশ্বকাপ থেকে দিন দশেক আগে বাড়ি ফিরছেন, এই তথ্য বার্সেলোনাকে স্বস্তি দিলেও সুয়ারেজের মিসগুলো বেশ ভাবাবে। কাভানির শূন্যতায় আরও যেন ধার হারিয়ে ফেলেছেন সুয়ারেজ।

আজ সবার নজর ছিল যাঁর ওপর, সেই এমবাপ্পে বেশ কয়েকটা ঝলক দেখিয়েছেনও। ১৫ মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুযোগটি পেয়েছিলেন তিনিই। জিরুর হেড থেকে পাওয়া বলটি আরামে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শট নিতে পারতেন। একদম ফাঁকায় ছিলেন বক্সে। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে হেড, বল গেল বারের ওপর দিয়ে। তবে এ-ও ঠিক, এমবাপ্পে-আতঙ্কে আজ ভুগেছে উরুগুয়ে।

উরুগুয়ের এই বিদায়ের পর আজ ফ্রান্সের কাছ থেকে বিশ্ববাসী শক্তিশালী এক বার্তাই পেলো। নিজেদের সামর্থ্য আবারও প্রমাণ করলো তারা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফরাসিদের নাম এবার উঠতে পারে ইতিহাসে, এই সম্ভবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না!

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।